ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার নাটকীয় জয়, চতুর্থবার ক্ষমতায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার নাটকীয় জয়, চতুর্থবার ক্ষমতায় ছবির ক্যাপশন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা(বাঁয়ে)
ad728

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয় ধাপে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থবারের মতো দায়িত্ব নেওয়ার পথে রয়েছেন তিনি। তাঁর এই জয় দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


প্রথম ধাপে পিছিয়ে, দ্বিতীয় ধাপে বড় জয়


অক্টোবরের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন লুলা। ওই ফলাফলের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ধাপে ভোটের চিত্র পাল্টে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ধাপে লুলা প্রায় ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় ধাপে তিনি প্রায় ৪৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ব্রাজিলে ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর প্রথম ধাপে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কোনো প্রার্থীর দ্বিতীয় ধাপে জয়ী হওয়ার এমন নজির ছিল না।


ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ


প্রথম ধাপে ভোট না দেওয়ার হার ছিল ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে তা কমে ১৯ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে আসে। লুলার মিত্রদের মতে, তাঁর সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে পারা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার অন্যতম কারণ।

লুলার সমর্থকদের মধ্যে প্রথম ধাপের ফলাফল নিয়ে হতাশা তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর পক্ষে প্রচার ও সমাবেশ জোরদার হয়। নির্বাচনের আগে রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকত এবং সাও পাওলোর পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে বড় সমাবেশ করেন তাঁর সমর্থকেরা।


গণতান্ত্রিক শক্তির জয় বলে মন্তব্য


ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর লুলার অন্যতম প্রধান মিত্র রেজিনাল্ডো লোপেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এই ফলের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল বিশ্বের কাছে একটি বার্তা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির সমালোচনা করা হয় এবং ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে নতুন করে সংগঠিত করার কথা বলা হয়।

সাও পাওলোতে ভোট গণনার ফল প্রকাশের পর লুলার সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আনন্দ উদ্‌যাপন করেন। তাঁদের হাতে ছিল লুলার ছবি-সংবলিত লাল পতাকা।


শ্রমিকনেতা থেকে প্রেসিডেন্ট


লুলার রাজনৈতিক জীবনের শুরু সত্তরের দশকের শেষ দিকে সাও পাওলোর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকনেতা হিসেবে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতা ১৯৮৯, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরপর তিনবার পরাজিত হন। পরে ২০০২ সালে প্রথমবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।

সংবিধান অনুযায়ী, টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর লুলা ক্ষমতা ছাড়েন। ২০২২ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। এবারের জয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল।


বলসোনারো পরিবার ও ট্রাম্পের জন্য ধাক্কা

ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ছেলে ফ্লাভিওর জয় তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলসোনারো পরিবারের মিত্র। ফলে ফ্লাভিওর পরাজয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্প-সমর্থিত ডানপন্থী রাজনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দুই বছরে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল, অর্থের সংস্থান নিয়ে বড় চ্য

দুই বছরে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল, অর্থের সংস্থান নিয়ে বড় চ্য