ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়েতে ২১ কোটি বছর আগের নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান, মিলল বিবর্তনের নতুন তথ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 29, 2026 ইং
জিম্বাবুয়েতে ২১ কোটি বছর আগের নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান, মিলল বিবর্তনের নতুন তথ্য ছবির ক্যাপশন: বিজ্ঞানীরা বুধবার জানান, জিম্বাবুয়েতে নতুন আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসর প্রজাতি এসব প্রাণীর বৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকার আলাদা আলাদা বাস্তুতন্ত্রে ডাইনোসররা আলাদাভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। এএফপি।
ad728

জিম্বাবুয়েতে প্রায় ২১ কোটি বছর আগের একটি নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই আবিষ্কার ডাইনোসরের বিবর্তন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাচীন বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নতুন প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস (Musango matusadonensis)। ২০১৮ সালে উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের তীরে খননকাজে উদ্ধার হওয়া একটি প্রায় সম্পূর্ণ কঙ্কালের ভিত্তিতে প্রজাতিটি শনাক্ত করা হয়েছে। এটি জিম্বাবুয়েতে আবিষ্কৃত পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি।

আন্তর্জাতিক জীবাশ্মবিদদের গবেষণা অনুযায়ী, ডাইনোসরটি প্রায় ২১ কোটি বছর আগে, অর্থাৎ লেট ট্রায়াসিক যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। সে সময় ডাইনোসররা বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে শুরু করলেও তারা তখনও স্থলভাগের প্রধান প্রাণী হয়ে ওঠেনি।

গবেষকদের ভাষ্য, পরবর্তী যুগের বিশাল আকৃতির লম্বা গলার ডাইনোসরের তুলনায় মুসাঙ্গো ছিল ছোট ও হালকা গড়নের। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার এবং ওজন প্রায় ২২২ কিলোগ্রাম

স্থানীয় শোনা ভাষায় ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ‘ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী’। সেই অর্থ থেকেই নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক পল ব্যারেট বলেন, আগে ধারণা করা হতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একই ধরনের ডাইনোসর বাস করত। তবে নতুন এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অঞ্চলটি একাধিক পৃথক বাস্তুতন্ত্রে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসরের বসবাস ছিল।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্ম সম্ভবত বিশাল অজানা এক জগতের খুব সামান্য অংশমাত্র।

গবেষণার ফলাফল জার্নাল অব সিস্টেম্যাটিক প্যালিওন্টোলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি জিম্বাবুয়েতে একই সময়কালের সবচেয়ে সম্পূর্ণ ডাইনোসর জীবাশ্মগুলোর একটি। এতে মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের হাড় সংরক্ষিত রয়েছে।

হাড় বিশ্লেষণে জানা গেছে, মৃত্যুর সময় ডাইনোসরটির বয়স ছিল প্রায় আট বছর এবং এটি প্রায় পূর্ণবয়স্ক হয়ে উঠেছিল। জীবদ্দশায় গুরুতর আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠারও প্রমাণ মিলেছে।

যদিও এখনো এর মাথার খুলি পাওয়া যায়নি, তবুও গবেষকদের ধারণা, মুসাঙ্গো সম্ভবত তৃণভোজী অথবা সর্বভুক ছিল এবং নদী ও জলধারার আশপাশে জন্মানো উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকত।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জিম্বাবুয়েতে আফ্রিকার সবচেয়ে প্রাচীন ডাইনোসর মবিরেসরাস রাথি-র জীবাশ্মও আবিষ্কৃত হয়েছিল। ওই ডাইনোসরটি প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
'মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হবেন না', আর্জেন্টাইনদের প্রতি এ

'মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হবেন না', আর্জেন্টাইনদের প্রতি এ