ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকঃ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বিপর্যয় কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, এটা বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 12, 2026 ইং
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকঃ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বিপর্যয় কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, এটা বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ। ছবির ক্যাপশন: এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
ad728

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে অবিলম্বে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করে সংকট উত্তরণের পথ বের করার দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে,  তা কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্য, অদূরদর্শিতা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার এক করুণ দশার প্রমাণ।

​তিনি  বলেন, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জনই অকৃতকার্য (ফেল) করেছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের (৬৮.৪৫%) তুলনায় ৬.২ শতাংশ কম। এর ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে। অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা থাকার এই নজিরবিহীন ঘটনা দেশের শিক্ষা খাতের এক মারাত্মক স্থবিরতাকেই স্পষ্ট করে।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বছর ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যা গত বছরের (১৩৪টি) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের ৯৮৪টি থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৬৯টিতে। এই চিত্রে স্পষ্ট যে, আমাদের গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো চরম অবহেলার শিকার।

​বিবৃতিতে সাইফুল হক  একই দেশে বহুধাবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানেরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মূলতঃ অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণেই প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী আজ শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছে।

​তিনি বলেন,  বিগত প্রায় দেড়-দুই দশক ধরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দু:শাসনের সময়কালে তরুণ শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে একের পর এক অদূরদর্শী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। বিদ্যার চর্চা ও প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে পাসের হার বাড়ানো, জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা আর অটোপাসের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থীর ফেল করা এবং একাদশে ১৩.৬১ লাখ আসন ফাঁকা থাকা কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক কোনো ক্ষতি নয়; এটি পুরো পরিবারের ওপর এক মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি।

​বিবৃতিতে সাইফুল হক অবিলম্বে এই অভূতপূর্ব ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবং সংকট উত্তরণে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘জাতীয়  কমিশন’ গঠনের  দাবি জানান। তিনি বলেন, এই কমিশনকে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে শিক্ষার ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি সরকার, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারপ্রধানের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কোনো কালক্ষেপণ না করে সংকট কাটিয়ে উঠতে সর্বজনীন, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চীনে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন

চীনে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন