ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মোড়ে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মোড়ে ছবির ক্যাপশন: মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে শনিবার ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ad728

ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। খার্গ দ্বীপের উপকূলে এমটি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ নামের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

এ ছাড়া ওমান উপসাগরে এমটি কাইলো নামের একটি খালি তেলবাহী জাহাজও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। জাহাজটির কর্মীদের সেটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়।

সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিওতে হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, তিনটি জাহাজই ‘বহু বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের’ অংশ ছিল। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আইআরজিসি এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থের জোগান দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।

হামলার পর সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানকে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, মার্কিন দুটি জাহাজে হামলা করা হলে এর জবাবে আরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করে ইরানের ওপর বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের বিমানবাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের দাবি, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওই দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে সেন্টকম বলেছে, জাহাজ দুটি সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে গেছে।


মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

একই সঙ্গে অন্য জাহাজগুলোকে অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে আইআরজিসি।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি সেন্টকম। হরমুজ প্রণালীতে বেসামরিক তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়েও ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দেয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাস্কের কাছে হামলার শিকার একটি ট্যাংকার খালি ছিল এবং অন্যটিতে তেল ছিল। জাহাজগুলোর নাবিকদের লাইফবোটে করে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। খার্গ দ্বীপে চালানো হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানানো হয়েছে।

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম-আল-আনবিয়া সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলা আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং এর পরিধিও বাড়তে পারে।


ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটির জনপ্রিয়তা কমছে এবং সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে চান না। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর মন্তব্যের সমর্থন করে সংঘাতটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি নড়িয়ে দিতে পারে।


হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

জুলাইয়ে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একাধিকবার হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে প্রণালীটিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়।

ভ্যান্সও বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে না।

তবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফেরার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার ভ্যান্স দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষ হয়ে গেছে।


সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় তুরস্কের একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে একটি বড় মিসরীয় ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রমকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রয়োগের অভিযানে যারা অংশ নেবে না, তাদেরও গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।


এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন নৌ ড্রোনে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন সামরিক মানববিহীন নৌযান বা নৌ ড্রোনে হামলা চালিয়েছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এই দাবি করা হয়। তবে ড্রোনে হামলার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন