ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আগামীকাল সাইফুল হকের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 25, 2026 ইং
আগামীকাল সাইফুল হকের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক
ad728



বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সাইফুল হকের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংকলন ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন আগামীকাল (রোববার, ২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কালের দাবি কার্যালয়ে (১৪/২, তোপখানা রোড, তৃতীয় তলা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীতে, বিএমএ ভবনের পাশে)  অনুষ্ঠিত হবে।

কালের দাবি প্রকাশনার উদ্যোগে প্রকাশিত এ সংকলনে সাইফুল হকের রাজনৈতিক জীবন, চিন্তাভাবনা, সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে তার ভূমিকার বিভিন্ন দিক স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, মতাদর্শিক অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকার একটি দলিল হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাইফুল হক বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার অন্যতম শীর্ষ নেতা। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা শুরু হয়। ছাত্রজীবনে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ঐক্য ফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের পর গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক-কৃষকসহ মেহনতি মানুষের  অধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরলসভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক,  বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে বহুবার সমন্বয়কের  দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে ২০০৪ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ সরকারের কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে সাইফুল হক নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা পালন করেন। গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি পর্যায়ক্রমে তিনবার মঞ্চের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের ৩১ দফা প্রণয়ন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দলের প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখসারির নেতৃত্বের অন্যতম ছিলেন।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সাইফুল হক চিন্তক, তাত্ত্বিক, লেখক ও বক্তা হিসেবেও সুপরিচিত। রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, বিপ্লবী বামপন্থী রাজনীতি, কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন এবং সমকালীন রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে তার রচিত বহু গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিন্তাচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সম্প্রতি তার ৪৫ বছরের নির্বাচিত রচনাবলি আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

কালের দাবি প্রকাশনা জানিয়েছে, মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, কবি, শিল্পী ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল