জোবাইদা নাসরীন পেশায় শিক্ষক। পড়াচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে। নিবন্ধকার হিসেবেও তিনি পরিচিত। তাঁর লেখার প্রধান বিষয় আদিবাসী জীবন ও নারী। তাঁর একাধিক প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোতে উঠে এসেছে নিন্মবর্গের মানুষের জীবন ও ইতিহাস। রাজনীতি সচেতন জোবাইদা নাসরীন এই সাক্ষাৎকারে মূলত কথা বলেছেন আদিবাসী নারী নেত্রী কল্পনা চাকমার অপহরণ, পাহাড়ে রাজনীতি, আদিবাসীদের ভবিষ্যত ইত্যাদি বিষয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বরলিপি। স্বরলিপি: ‘কল্পনা চাকমা বলে কেউ ছিল না!’ এই শিরোনামে সম্প্রতি আপনি একটি নিবন্ধ লিখেছেন। কল্পনা চাকমা অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৯৯৬ সালের ১২ জুন। বহুদিন পর আপনি বিস্মৃতপ্রায় কল্পনা চাকমাকে মনে করিয়ে দিলেন। জোবাইদা নাসরীন: ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কারণে আমি বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছি। একটি কারণ-কল্পনা আমার বন্ধু ছিল। আরেকটি কারণ- কল্পনা অপহরণের মামলাটি সরকারিভাবে ডিসক্লোজ করা হয়েছে। কল্পনা চাকমা অপহরণের মামলাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল, যেহেতু তিনি ছিলেন অবিভক্ত হিল উইমেন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। কিন্তু আমি মনে করি, মামলাটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাড়াচাড়া কম হয়েছে। কল্পনার ভাইয়েরা এবং মা বলেছিলেন, তারা অপহরণকারীকে চিনতে পেরেছেন। মানুষের মধ্যে ফিস্ফাস্ ছিল একটি বিশেষ সংস্থার লোকেরা কল্পনা চাকমাকে অপহরণ করেছে। যে কারণে বাইরে আলোচিত হলেও দেশের অভ্যন্তরে কল্পনার মামলাটি এগোয়নি। আপনারা জানেন, কল্পনার মামলাটি বিভিন্ন সময় রদবদল হয়েছে। কিন্তু মামলার অগ্রগতি হয়নি। এদিকে বারবার বলা হয়েছে, কল্পনার ভাইয়েরা, মা অপহরণকারীকে চিনতে পেরেছেন, তারা গুলির শব্দ পেয়েছেন; তারা অনেক দূর কল্পনার সঙ্গে গিয়েছিলেন। অথচ বলা হচ্ছে- ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। এখন দেখুন কল্পনা সম্পর্কে খুব একটা বাতচিত নেই। যে কারণে স্মৃতি থেকে বলছি- একটা টার্ম আছে Remember to Forgate. ভুলে যাওয়ার রাজনীতি যেটা; কোনটা আমরা মনে রাখবো বা কোনটা আমরা ভুলে যাবো, কোনটা আমাদের মনে রাখানো হবে কিংবা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে- সেই রাজনীতিতে পড়েছে কল্পনা নামটি। ২ জুন ১৯৯৬ সালে অপহ্নত কল্পনা চাকমা স্বরলিপি: প্রত্যক্ষদর্শী থাকা সত্ত্বেও অপহরণকারী আড়ালে থেকে গেলেন! জোবাইদা নাসরীন: কল্পনা অপহরণের সঙ্গে একটি বাহিনী জড়িত। যেটা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, কল্পনার ভাই এবং মা দাবি করেছেন সেই জায়