
বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফন ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং বাধা দেওয়ার অভিযোগকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষকৃত্য ও দাফনের অধিকার ভয়ভীতি ও ত্রাসের মুখে পড়া মানবিক মূল্যবোধ এবং মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে পিরোজপুরে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর জানাজা ও নিজ বাড়িতে দাফন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানান সাইফুল হক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়ার পরও স্থানীয়ভাবে বাধা ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে তার জানাজা ও দাফন নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাইফুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, আতঙ্কের কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্য ও স্থানীয় মানুষ দাফনের কাজে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। শোকাহত পরিবারের নারী সদস্য ও স্বজনদের নিজেদের হাতে কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশি পাহারায় মধ্যরাতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষকৃত্য ও দাফনের অধিকার বাধা, ভয়ভীতি ও ত্রাসের মুখে পড়লে তা শুধু মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নয়, মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারেরও গুরুতর লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে সাইফুল হক আরও বলেন, কোনো সংগঠনের ছত্রছায়ায় যদি মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা, শোকাহত পরিবারের অধিকার এবং মানুষের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার বিপন্ন করে ভীতি ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি করা হয়, তাহলে নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ভবিষ্যতে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তিরই ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ কিংবা সমাজে ত্রাসের পরিবেশ তৈরির অধিকার নেই।
সাইফুল হক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজে ভয়ভীতি, অসহিষ্ণুতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।