
ঢাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুটি ঘটনায়ই স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ও সরকারি মহলে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরপুরের ইসিবি চত্বরসংলগ্ন এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওতে হামলা ও লুটপাটের জন্য বিএনপির কর্মীদের দায়ী করেন এবং দলটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
এর আগে মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তারক্ষীদের জিম্মি করে এক্সকাভেটর দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে পুলিশের সক্ষমতা ও কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সালমান মুক্তাদিরের বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলার অভিযোগকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ঢালাও অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট মামলা করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষ এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা এবং দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক দল, বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।