
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৪ মিনিট ধরে বাদানুবাদ, প্রতিবাদ ও হইচই চলে।
প্রথমে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যকে ‘পল্টনের বক্তৃতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রকাশ্যে ছিনতাই, সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা এবং এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না।’ এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি এবং পরে বক্তব্য প্রত্যাহারের কথাও জানান। কিন্তু তাতেও প্রতিবাদ থামেনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কয়েক দফা বিরোধী দলের সদস্যদের বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে সরকারকে সমালোচনা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্য শেষ করতে দেওয়া উচিত। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছাত্র হওয়ার জন্য’ সংসদে আসেননি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণকে ‘পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান।
এরপর স্পিকার সংসদীয় শিষ্টাচার, কার্যপ্রণালী বিধি এবং পরমত সহিষ্ণুতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি অসংসদীয় বক্তব্য থাকলে সেটিও বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর আগের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া এবং তাঁর দাড়ি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ করেন। বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি স্পিকার সংসদের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা একে অন্যকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার যে প্রবণতা দেখাচ্ছেন, তা সংসদের ভবিষ্যতের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর অর্জিত গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সংসদের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, নিয়ম ও রীতি অনুসরণ না করা হলে সংসদ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।