
জুলাই মাসে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫৭ দশমিক ৮-এ উন্নীত হয়েছে। অর্থনীতির প্রধান চারটি খাতের মধ্যে তিনটিতে সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন খাতের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার জুলাইয়ের পিএমআই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে প্রকাশিত জুলাই ২০২৬-এর পিএমআই প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে উৎপাদন খাতের পিএমআই ১৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৫ দশমিক ৪-এ পৌঁছেছে। পরিষেবা খাতের পিএমআই ১ দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬ দশমিক ০ এবং কৃষি খাতের পিএমআই ৫৫ দশমিক ২-এ উন্নীত হয়েছে। তবে নির্মাণ খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক ৩-এ অবস্থান করায় এ খাতে সামান্য সংকোচনের চিত্র পাওয়া গেছে।
কৃষি খাত টানা ১১তম মাসের মতো সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এ খাতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়লেও কর্মসংস্থান সূচক সামান্য সংকোচনে ফিরেছে। একই সঙ্গে উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং অসমাপ্ত অর্ডারের সূচক সংকোচনের মধ্যে রয়েছে।
উৎপাদন খাতে জুলাইয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়, আমদানি, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহকারীদের পণ্য সরবরাহ—সব সূচকেই সম্প্রসারণ হয়েছে। তবে উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং অসমাপ্ত অর্ডারের সূচক সংকোচনের মধ্যে রয়েছে।
নির্মাণ খাতে জুলাইয়ের পিএমআই ৪৯ দশমিক ৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা সামান্য সংকোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে জুনের তুলনায় এ খাতের সূচক ৯ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়েছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানে সংকোচনের হার কমেছে। অন্যদিকে উপকরণ ব্যয় ও অসমাপ্ত অর্ডারের সূচকে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
পরিষেবা খাতও টানা ২২তম মাসের মতো সম্প্রসারণ ধরে রেখেছে। জুলাইয়ে এ খাতের পিএমআই ৫৬ দশমিক ০-এ উন্নীত হয়েছে। নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং উপকরণ ব্যয় সূচকে দ্রুততর সম্প্রসারণ দেখা গেছে। একই সঙ্গে অসমাপ্ত অর্ডারের সংকোচনের হার কমেছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ ব্যবসায় সূচকেও সব খাতে শক্তিশালী সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে। এতে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ আশাবাদের প্রতিফলন ঘটেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, জুলাইয়ের পিএমআই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপকভিত্তিক শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে উৎপাদন খাতের তীব্র পুনরুদ্ধার এবং কৃষি ও পরিষেবা খাতের অব্যাহত সম্প্রসারণ।
তিনি বলেন, উৎপাদন খাতের এই পুনরুদ্ধারের সঙ্গে গত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানি আয় অর্জনের বিষয়টিও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ড. মাসরুর রিয়াজের মতে, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নির্মাণ খাত এখনো সামান্য সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। তবে সব খাতে উচ্চ আশাবাদ ব্যবসায়িক আস্থার উন্নতি, বৈদেশিক বাণিজ্য খাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের পর আরও সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রত্যাশাকে নির্দেশ করছে।
পিএমআই এমন একটি অগ্রণী অর্থনৈতিক সূচক, যার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ধারণা পাওয়া যায়। ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এটি সহায়তা করে।
এ সূচকটি এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহায়তায় প্রণীত।