
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৪.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার মূলধন এবং ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণকে সহনশীল পর্যায়ে রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বৈদেশিক ঋণে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও ঋণ প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক প্রকল্প ছাড়া নতুন ঋণনির্ভর উদ্যোগ অনুমোদন না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, উচ্চ সুদের হার এবং কঠোর শর্তযুক্ত স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এ ধরনের ঋণ অনুমোদনের আগে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে ঝুঁকি ও আর্থিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারের মিডিয়াম টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (এমটিডিএমএস) হালনাগাদের কাজ চলছে। পাশাপাশি দেশের ঋণ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা মূল্যায়নে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি সংস্কারের জন্যও একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।