
অর্থ পাচার ও রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রপ্তানির ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেশে আনার ভুয়া হিসাব দেখান। একই সঙ্গে রপ্তানি প্রণোদনা হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪১টি রপ্তানি চালানের নথি জমা দেয়। এর মধ্যে মাত্র সাতটি চালানের প্রকৃত রপ্তানির তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি ৩৪টি চালানের ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়নি। তবুও এসব চালানের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে বলে দেখিয়ে সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করা হয়।
এই ঘটনায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক।
এর আগে অভিযুক্তরা উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে সর্বশেষ শুনানিতে আদালত তাদের স্থায়ী জামিনের আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।