
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্নের কারণে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আমেরিকা অঞ্চলের শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএইচও)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮৮৯ জনে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জন রয়েছে।
একই দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিএইচওর পরিচালক ও ডব্লিউএইচওর আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক জারবাস বারবোসা বলেন, ভূমিকম্পে সরাসরি আহত হওয়ার পাশাপাশি আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি এবং টিকাদান ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ৮০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৯০৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
বারবোসা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ঘনবসতিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসকারীরা বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে পিএইচও।
এ ছাড়া সংস্থাটি জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে সৃষ্ট এই দুর্যোগ বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্যই মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন।
তিনি জানান, আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে জাতিসংঘ। ইতোমধ্যে সংস্থাটি ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে এবং গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্যসহায়তা পেয়েছেন।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ।
পিএইচওর স্বাস্থ্য জরুরি বিভাগের পরিচালক সিরো উগার্তে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর জরুরি চিকিৎসাসেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।