
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) আওতাধীন ছয়টি থানা এলাকায় গত জুন মাসজুড়ে পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে মোট ২ হাজার ৩২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মঞ্জুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসব্যাপী পরিচালিত অভিযানে ৭৪৪ জন মাদকসেবী ও মাদক কারবারি, ১৭৬ জন জুয়াড়ি, ২০ জন ছিনতাইকারী, ৩৬ জন চোর ও ডাকাত, ২৬ জন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, ১৮৯ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ১৮৮ জন হকার, ৭২৫ জন মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ লঙ্ঘনকারী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং অন্যান্য মামলায় আরও ২১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮৫২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১০ হাজার ৬৭৪ পিস ইয়াবা, ছয় বোতল বিদেশি মদ, ৭৯২ লিটার চোলাই মদ এবং ২৮ কেজি ২৯৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে।
এছাড়া চোরাচালানের মাধ্যমে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৬১০ কেজি জিরা, ১৭ হাজার ৮৯টি চকলেট, ২৬ হাজার ৬৭৫টি প্রসাধনী সামগ্রী, ৩ হাজার ৫১৫ কেজি চা পাতা, ৯ লাখ ৮৭ হাজার পিস সেখ নাছির ব্র্যান্ডের বিড়ি, ১৬২টি কম্বল এবং ১০০টি শাড়ি।
এদিকে, একই সময়ে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগ মহানগর এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪ হাজার ৩৬০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং ২ হাজার ৩৫৩টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসব অভিযান পরিচালনা করে।
মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।