শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ক্রোয়েশিয়াকে বিদায়, স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল
রুদ্ধশ্বাস লড়াই, নাটকীয় শেষ মুহূর্ত আর ভিএআরের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে স্মরণীয় এক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরালেও ভিএআরে অফসাইড ধরা পড়ায় গোল বাতিল হয়, আর তাতেই শেষ হয়ে যায় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
টরন্টো স্টেডিয়ামে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পর জমে ওঠে লড়াই। ৫৩তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে পিছিয়ে পড়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের দারুণ ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস। সেই গোলেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
তবে নাটক তখনও বাকি। যোগ করা সময় প্রায় শেষ হওয়ার পর ইয়োশকো ভার্দিওল বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরানোর উল্লাসে ভাসান। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি। সিদ্ধান্তে হতাশ ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতিবাদের মধ্যেই শেষ বাঁশি বাজে।
ম্যাচটি ছিল দুই কিংবদন্তি—৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম মুখোমুখি লড়াই। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে বিদায় নিতে হলো মদ্রিচকে, আর রোনালদো দলকে তুললেন পরের ধাপে।
এই ম্যাচে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানও ঘটান রোনালদো। এটি ছিল নকআউটে তার প্রথম গোল, যা আসে নবম ম্যাচে এবং ৩১তম শট থেকে।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়া আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেও একাধিকবার অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। ম্যাচে তাদের তিনটি গোলই অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
অন্যদিকে পর্তুগালের একটি গোলও অফসাইডে বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত রামোসের হেডে জয় নিশ্চিত করে দলটি।
কোয়ার্টার-ফাইনালে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই পরাশক্তির লড়াই ঘিরে বিশ্বকাপে জমে উঠেছে আরেকটি হাইভোল্টেজ মহারণের অপেক্ষা।