
জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন করায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। ওই ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও শাস্তির বিধান ছিল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর দফা ও শিরোনাম অনুমোদন শেষে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলটির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে জুয়া-সংক্রান্ত ধারা রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই। তাই সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ থেকে শুধু ২০ ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনটির অপব্যবহার রোধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করেন, সাইবার আইন যেন কোনোভাবেই বিরোধী মত দমন বা নাগরিক হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও জনপরিচিত নারীরা প্রতিনিয়ত সাইবার হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের শিকার হচ্ছেন। তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সমালোচনার কারণে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ সাইবার আইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন। নতুন আইন যেন কারও বিরুদ্ধে হয়রানির হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন, প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রণয়ন করা হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি তদন্ত, ডিজিটাল তথ্য জব্দ, অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ এবং নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক তদারকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও আলোচনায় অংশ নেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট প্রচার এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষয়গুলো মোকাবিলায় সরকার পৃথক উদ্যোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা নতুন বিল আনা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনটি বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনটির যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
পরে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ করে স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।