প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 30, 2026 ইং
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গনিমতের মাল বানানো হয়েছিল'—বিস্ফোরক অভিযোগ সাইফুল হকের

জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানালেও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জবাবদিহির অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট সংঘটিত হয়েছে। তাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত তদন্ত করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা জরুরি।
সাইফুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে কোনো কার্যকর জবাবদিহিতা ছিল না। এই সুযোগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও কোষাগারের অর্থ অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, তদবির, ঠিকাদারি, আবাসন খাত এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অংশও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে ব্যবহার করে দ্রুত সম্পদের মালিক হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো প্রতিশোধ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি নয়; বরং জনগণের অর্থের যথাযথ হিসাব নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন। সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।
জামায়াতের প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দলটি এখনো মুক্তিযুদ্ধে তাদের অতীত ভূমিকার জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চায়নি বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের জামায়াত নেতাদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাই অতীতের দায় থেকে বেরিয়ে এসে দলটির উচিত জনগণের কাছে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা।
এই দুই ইস্যুর সূত্রপাত হয় জাতীয় সংসদে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং তা করলে দলটির রাজনীতি আরও সহজ হবে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতির পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করলেও তখন এ প্রশ্ন তোলা হয়নি। এখন সরকারে থেকে প্রধান বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে এমন বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির তদন্তের দাবিকে তিনি স্বাগত জানান এবং বর্তমান সময়ের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগও তদন্তের আহ্বান জানান।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জামায়াতের অতীত ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন। তবে বিএনপি দীর্ঘদিন দলটির সঙ্গে রাজনীতি করার পর এখন বিষয়টিকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের পক্ষেও মত দেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা ইতিহাসে প্রমাণিত। দলটির বর্তমান নেতৃত্ব যদি সে বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে থাকে, তাহলে জনগণের সামনে তা স্পষ্ট করা উচিত। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং সব দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সহ যে কোনো সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
© স্বত্বাধিকারঃ কালের দাবি