
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের অনুশীলনও করিয়েছে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যাতে কোনো অবস্থাতেই দল অপ্রস্তুত না থাকে।
২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার পরিকল্পনা সাজিয়েছে সেলেসাওরা। আনচেলত্তির মতে, নকআউট ম্যাচে একটি মুহূর্তই ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তাই প্রতিটি সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, “নকআউট ম্যাচে কী ঘটবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যেতে পারে, আবার টাইব্রেকারেও গড়াতে পারে। তাই আমরা সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু ফুটবল খেললেই হবে না, মানসিকভাবেও শক্ত থাকতে হবে। দল আত্মবিশ্বাসী, অনুপ্রাণিত এবং শেষ দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।”
এটাই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আনচেলত্তির প্রথম ম্যাচ হলেও অভিজ্ঞ এই কোচের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তার ভাষায়, এই ধরনের ম্যাচে ভুলের সুযোগ নেই, কারণ হার মানেই বিদায়।
“এটি এমন একটি ম্যাচ, যেখানে দ্বিতীয় সুযোগ নেই। তাই আমাদের আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে হবে। খেলোয়াড়রা এই ম্যাচের গুরুত্ব বোঝে এবং আমি তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি,” বলেন তিনি।
হিউস্টনে শেষ অনুশীলনে পুরো স্কোয়াডকে পেয়েছেন আনচেলত্তি। তবে ম্যাচের শুরুর একাদশ প্রকাশ করেননি তিনি। হাস্যরস করে বলেন, “যারা খেলবে তারা জানে, যারা খেলবে না তারা এখনও জানে না। একটু রহস্য থাকুক।”
দলের একমাত্র অনুপস্থিত খেলোয়াড় রাফিনহা, যিনি এখনও উরুর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে উন্নতি করছেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই ফরোয়ার্ডকে জাপানের বিপক্ষে আরও বেশি সময় খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচের।
আনচেলত্তি জানান, “নেইমারের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। সে ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারবে। তবে কতক্ষণ খেলবে, সেটি ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।”
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের সামনে রয়েছে গত বছরের প্রীতি ম্যাচের হারের স্মৃতি মুছে দেওয়ার সুযোগও। টোকিওতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল সেলেসাওরা। তবে সেই ম্যাচে ভুল করা কয়েকজন খেলোয়াড় এবার বিশ্বকাপ দলে নেই।
জাপানকে হারাতে পারলে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। তাই নকআউট অভিযান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করাই এখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রধান লক্ষ্য।