
ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এম/ভি এভার লাভলি। এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে ইরানের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, পাশাপাশি উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিজেদের রয়েছে বলে পুনরায় দাবি করেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলোকে তেহরানের নির্দেশনা ও নির্ধারিত রুট মেনে চলতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের জন্য দায়ী করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে তারা নিরাপত্তা সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক হামলার পর এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যদিও কিছু তেলবাহী জাহাজ ধীরে ধীরে চলাচল পুনরায় শুরু করেছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য হরমুজ প্রণালী থেকে আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে।