
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পণ্য পাঠানোর নাম করে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের বাণিজ্যিক পণ্য পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই জালিয়াতি ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে বেনাপোল বিজিবি কোম্পানি সদরের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাকসহ তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন:
ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী (৩৮): বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা।
মো. মহসিন আলী (৩৪): ট্রাকচালক।
মো. জাহিদ হাসান (২১): ট্রাকের হেলপার।
যেভাবে চলছিল পাচারের চেষ্টা -
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে বিজিবির অভিযানে উদ্ধারকৃত এবং চেকপোস্টে যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা উচ্চ শুল্কের বাণিজ্যিক পণ্য বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনে রাখা হতো। সরকারি ত্রাণের আড়ালে কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা গভীর রাতে অতিরিক্ত চোরাচালানি পণ্য ট্রাকে লোড করে পাচারের চেষ্টা চালান।
সহকারী কাস্টমস কমিশনারের পক্ষে মো. রাহাত হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির সূত্র ধরে এই পণ্যগুলো পাঠানোর মূল দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী। তল্লাশিকালে উক্ত ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন প্রকারের দামি কসমেটিক্স পাওয়া যায়, যা কাস্টমস হাউস থেকে অবৈধভাবে চুরি করে পরিবহন করা হচ্ছিল. প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত মালামালের বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
বিজিবির বক্তব্য -
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কাস্টমসের পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ তিনজনকে আটক করেছে. উদ্ধারকৃত ভারতীয় বিভিন্ন মালামালের সঠিক হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে. আটক আসামিদের বিরুদ্ধে চোরাচালান বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।"