মে দিবস বিশ্ব শ্রমিক দিবস; শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের দিন, শ্রমিকশ্রেণীর অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শপথ গ্রহনের দিন। ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে রক্তাক্ত শ্রমিক আন্দোলনে শ্রমঘন্টা কমানো সহ শ্রমিকের অধিকারের দাবি প্রধান হয়ে সামনে এলেও কালক্রমে দুনিয়াজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনে ট্রেড ইউনিয়নগত দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক দাবি প্রধান হয়ে উঠতে থাকে। ১৮৮৯ সালে শ্রমিকশ্রেণীর মহান নেতা ফ্রেডেরিক এংগেলস এর নেতৃত্বে কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে প্রতিবছর পহেলা মে শ্রমিক দিবস হিসেবে উজ্জাপনের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা তৈরী হয়।শ্রমিক আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক চরিত্র গ্রহন করতে থাকে।ক্রমে শ্রমিকশ্রেণী রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত হতে থাকে।এরই প্রথম সফল রাজনৈতিক প্রকাশ ঘটে ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে, যেখানে শ্রমিকেরা নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা পালন করে। রুশ বিপ্লব পরবর্তী ১০০ বছর রাজনৈতিকভাবে শ্রমিকশ্রেণী পৃথিবীর দেশে দেশে আরও অগ্রসর হয়েছে। এই যাত্রায় আগু পিছু আছে, হোচট খাওয়া আছে, আছে জয় পরাজয়। কিন্তু শ্রমিকশ্রেণী এখনও এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রণী শ্রেণী, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপরীতে স্বাধীন বিপ্লবী শ্রেণী। বস্তুত এই শ্রেণীর উপরই নির্ভর করছে আগামী দুনিয়ে, মানবজাতির ভবিষ্যৎ, সাম্যভিত্তিক এক মানবিক সভ্যতা। বাংলাদেশে শ্রমিকশ্রেণী এখনও বিপর্যস্ত, বহুধাবিভক্ত।এখানে শ্রমিকশ্রেণীসহ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের বড় অংশ এখনও এদেশের লুটেরা শাসক শ্রেণী ও তাদের বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত।লুটেরা ধনীক-বনিকদের এসব দল শ্রমিকদের ভোট চায়, কিন্তু তাদের অধিকার দিতে চায়না। গত দেড় দশক শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকারই ছিলনা।এবার ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর ভোটের জন্য শ্রমিকদের কিছুটা মূল্য বেড়েছে সত্য, কিন্তু দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে শ্রমিকদের কারও ভোটে দাঁড়ানো বা জিতে আসার কোন সুযোগ নেই।ধনীদের কোন না কোন দলে ভোট দেয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই। কয়েক দশক আগেও দেশের রাজনীতিতে শ্রমিকদের যেটুকু গুরুত্ব ও মর্যাদা ছিল আজ তা নেই। জাতীয় রাজনীতিতে বিপ্লবী বামপন্থী শক্তি যত দূর্বল ও বিভক্ত হয়েছে শ্রমিকদের রাজনৈতিক গুরুত্ব তত কমেছে। এর ফলে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনও তত দূর্বল হয়েছে।এই একবিংশ শতাব্দীতেও শ্রমিক, শ্রমজীবী মেহনতি মানু