বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলের একাধিক সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন বিষয়ে অবগত বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তন না হলে তিনিই বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে দাবি তাদের।
তবে একই সঙ্গে তারা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল গত ৬ আগস্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। আর ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন রুহুল কবির রিজভী। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তাকে সক্রিয়ভাবে রাজপথে দেখা গেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা নেতাদের মধ্যে রিজভী অন্যতম। দলীয় কর্মসূচি, হরতাল-অবরোধ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও সক্রিয় ছিলেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।
২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন রিজভী।
দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তাকে বিএনপির সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন এবং বিএনপির মহাসচিব পদে রুহুল কবির রিজভীর দায়িত্ব গ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।

কালের দাবি ডেস্ক