ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্জন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্জন ছবির ক্যাপশন: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম (বাঁয়ে) ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ad728

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে সরকার। সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক, যৌথ ঘোষণা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারিত হলেও বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত অর্জন নির্ভর করবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়নের ওপর।

মালয়েশিয়া ও চীন—উভয় দেশই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার, অন্যদিকে চীন দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সহযোগী। ফলে এই দুই দেশকে প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর বা বিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতিতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্নের লক্ষ্য, শ্রমবাজারে সহযোগিতা, যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল গঠন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হালাল শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সবুজ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব জোরদারের ঘোষণা এসেছে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, নিরাপদ অভিবাসন এবং বাংলাদেশের আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সমঝোতার আওতায় রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, সবুজ উন্নয়ন, কৃষিপণ্য রপ্তানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব। দুই দেশ সম্পর্ককে আরও গভীর কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে।

সফরে তিস্তা নদীসহ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও সেচব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনা বাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে বড় অঙ্কের নতুন বিনিয়োগ, তিস্তা প্রকল্পের অর্থায়ন বা শ্রমবাজার পুরোপুরি চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।

সরকারের দাবি, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, এখন পর্যন্ত অধিকাংশ অর্জন সমঝোতা, যৌথ বিবৃতি এবং প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত হলে তবেই সফরটিকে পূর্ণাঙ্গ সফল বলা যাবে।

সামগ্রিকভাবে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সাফল্যের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘোষিত উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত এই সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পবিত্র আশুরা আজ, শোক-ত্যাগ ও সত্য প্রতিষ্ঠার চিরন্তন শিক্ষা

পবিত্র আশুরা আজ, শোক-ত্যাগ ও সত্য প্রতিষ্ঠার চিরন্তন শিক্ষা